নারীদের উন্নয়নে টুপি কারিগর রুনা

reecallমোছাঃ রুনা খাতুন,স্বামীর নাম- মোঃ মনিরুল ইসলাম গ্রাম- খাসবড়শিমুল, ইউনিয়ন-সয়দাবাদ, জেলা- সিরাজগঞ্জ।রুনা খাতুনের বয়স ২১বৎসর।বর্তমানে তাদের ১টি মাত্র ছেলে সন্তান।ছেলে ও স্বামীস্ ত্রীসহ ৩জনের সংসার।রুনার স্বামী দিনমজুর এবং রুনা টুপি তৈরী করে। রুনা খাতুন রি-কলপ্রকল্পে ২০১০ এর আগষ্ট মাসে খাসবড়শিমুল-২সিবিওর কার্যকরী কমিটির সদস্যভুক্ত হন এবং পরবর্তীতে উৎপাদকদলের টীমলিডার হিসাবে কাজ করেন। রুনার বাবার বাড়িছিল বেলকুচি উপজেলার আদাচাকি গ্রামে।রুনার বাবার সাংসারিক অবস্থা খুব একটা ভালছিলনা। তাই ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর আর লেখাপড়া করতে পারেনি। তার বিয়ে হয়েছিল প্রায় সাত বছর আগে খাসবড়শিমুল গ্রামের দরিদ্র একটি পরিবারে।আদাচাকি গ্রামের অধিকাংশ মেয়েরা টুপি তৈরী করে । তাই রুনাও ছোট বেলা থেকেই টুপি তৈরী শিখে টুপি তৈরী করতো।বিয়ের পর খাসবড়শিমুল গ্রামে এসেও রুনা টুপি তৈরী থেকে বিরত থাকেনি। স্বামী দিনমজুরের কাজ করে।আর রুনা প্রতিমাসে টুপি তৈরী করে প্রায় এক হাজার টাকা করে আয় করত।এই দিয়ে রুনা সংসার কোন রকমে চলে যেত।২০১০ সালের আগষ্ট মাসে রি-কল প্রকল্পের ঐবছর বাজার সম্প্রসারন পরিকল্পনায় খাসবড়শিমুল গ্রামে টুপি তৈরীর কথা উঠে আসে।যাচাই কাজে বেলকুচি উপজেলার আদাচাকী গ্রামের “লিটন টুপি ঘর”এরসাথে আলোচনা করে জানা যায় বাজারে টুপির প্রচুর চাহিদা আছে।বাংলাদেশ থেকে তৈরীকৃত টুপি ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।রি-কল প্রকল্প থেকে উক্ত গ্রামে ৬৫জনকে তিনব্যাচে প্রশিক্ষণ করানো হয়।প্রশিক্ষক হিসাবে রুনা নিয়োগ পায়।এ ছাড়া আশেপাশের গ্রামেও টুপি তৈরীর প্রশিক্ষণে রুনা প্রশিক্ষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয় এবং প্রশিক্ষকের সম্মানী পায়।এছাড়া সে রি-কল প্রকল্প থেকে একটি সোলার সহযোগিতা পায়।ফলে সে রাত্রেও টুপি তৈরীকরে। খাসবড়শিমুল গ্রামে ৮০- ৮৫জন নারী টুপি তৈরী করছে। উক্ত গ্রামে টুপি তৈরী নারীর সংখ্যাও উৎপাদনবৃদ্ধি পায়।এই রমরমা ব্যবসা দেখে রুনা আগ্রহী হয় পাইকারহও য়ার জন্য। ফলে রি-কল রকল্পের কাছে ব্যবসা সহযোগীতা চেয়ে আবেদন করে।রি-কল প্রকল্পথেকে ১০,০০০/= টাকা সহযোগীতা পেয়েরুনা টুপির ব্যবসা শূরু করে। সে এখন নিজে টুপি তৈরীতো করেই পাশা পাশি প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করে এবং ব্যবসা করে।খাসবড়শিমুল এলাকায় রুনাকে দেখে অনেক নারী গৃহ কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরীর কাজ করছে ,ফলে নারীরা উপার্জন এর মাধ্যমে পরিবারে তাদের গ্রহন যোগ্যতা বৃদ্ধি করছে।পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহনে কিছুটাহলেও ক্ষমতায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।রুনা মনে করে মানব মুক্তি সংস্থা আজ তাদের পাশে আছে বিধায় তাদের পক্ষে বিভিন্ন কর্ম কান্ডে অংশগ্রহন করার সুযোগ ঘটছে পাশাপাশা নারীনেতৃত্ব বিকাশে ভুমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে।

Calender

May 2016
S S M T W T F
« Feb    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031